ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের জ্বালানি তেল পরিমাপে কারচুপি রোধে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) দুটি পৃথক মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুটি ফিলিং স্টেশনকে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী সর্বমোট দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিটসমূহ সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম অভিযান: সোহরাব সার্ভিস স্টেশন
রোববার দারুস সালাম থানার কল্যাণপুর এলাকায় ‘সোহরাব সার্ভিস স্টেশনের’ চারটি ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি ইউনিটে মারাত্মক কারচুপি ধরা পড়ে, যেখানে প্রতি ১০ লিটার জ্বালানি তেলে যথাক্রমে ১,০৮০ মিলিমিটার এবং ৯৮০ মিলিমিটার তেল কম পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রাহকদের প্রতিটি ১০ লিটার তেলের জন্য প্রায় এক লিটার বা তার বেশি পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছিল। এ অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিট দুটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযান: মইন মটরস ফিলিং স্টেশন
সোমবার অভিযানকালে মগবাজারের সাংবাদিক সেলিনা পারভীন স্মরণীস্থ ‘মইন মটরস ফিলিং স্টেশনের’ অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করা হয়। যাচাই করে দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটারে ৮০ মিলিমিটার জ্বালানি তেল কম প্রদান করা হচ্ছে। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিটটি সিলগালা করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব ও প্রসিকিউশন
ওই মোবাইল কোর্ট বিএসটিআইর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং সাবেকুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। প্রসিকিউটর হিসেবে বিএসটিআইর পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রাভী মোহাম্মদ ইতমাম এবং ফিল্ড অফিসার সুমাইয়া আফরোজ লিজা, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রেজওয়ানুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। বিএসটিআইর এই অভিযান ভোক্তা অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



