ঈদের ছুটির আমেজ এখনও কাটেনি রাজধানীতে। ছুটির কারণে রাজধানীবাসী অনেকেই এখনও রয়েছে শহরের বাইরে। আর এই কারণে কাঁচাবাজারে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বাজারে নেই সবসময়ের মতো স্বাভাবিক ভিড়। বিক্রেতারা অপেক্ষায় রয়েছেন কবে আসবেন তাদের ক্রেতারা, কবে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বাজার। তবে ক্রেতা কম থাকলেও কমেনি সবজির দাম। প্রায় ক্রেতা শূন্য বাজারে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
ফাঁকা বাজারে উচ্চ দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি
ঈদের আমেজে বাজারে ক্রেতা সমাগম কম থাকলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। কিছু সবজির দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিক্রেতারা বলছেন— ঈদের কারণে দাম কিছুটা বাড়তি।
আজকের বাজারে প্রতি কেজি দেশি টমেটো ১৪০ - ১৭০ টাকা, দেশি গাজর ১৬০ টাকা, চায়না গাজর ১৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০-৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, শিম (প্রকারভেদে) ৩২০ টাকা, সজনে ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১২০-১৬০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, দেশি পটল ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০-১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ২০০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, পেপে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, বাধাকপি ৬০-৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৫০-৬০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা করে।
এক্ষেত্রে দেখা যায় উপরে উল্লেখিত ৩৩টি সবজির মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা এর উপরে দাম রয়েছে ২৬টি সবজির। আর বাকি সবজিগুলোর দাম রয়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।
এসব সবজির মধ্যে ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে টমেটো বিক্রি হয়েছে ৫০-৭০ টাকা কেজিতে। যা আজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৭০ টাকা কেজিতে। দেশি গাজর বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়, যা আজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। প্রকারভেদে শিম বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়, আজ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজিতে। দেশি শসা ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকা করে। কাঁচা মরিচ ১০০ কেজিতে বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ধনেপাতা ১৬০ টাকা করলেও তা আজ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বিক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, “এখন বাজারে কাস্টমার নাই। আবার সবজি আনবে যারা (পাইকার) তারাও ছুটি কাটিয়ে আসে নাই। তাই সাময়িক একটা ঘাটতি আছে যে কারণে দাম কিছুটা বেশি। আবার যদি কাস্টমার বেশি থাকতো আর সবজির সাপ্লাই এরকমই থাকতো। তাহলে সবজির দাম আরও অনেক বেড়ে যেতো।”
আরেক বিক্রেতা সাইফুল্লাহ বলেন, “আমি দোকান বন্ধ রাখিনি। ঈদের দিনও আমি খোলা রেখেছি। রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রেখেছি। ভালো বিক্রি হয়েছে।” এসময় দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন একটু দাম বেশি সবজির। ঈদের কারণে বেড়েছে, আবার বর্ষার কারণেও বেড়েছে।”
স্থির রয়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম
ঈদের আমেজের এই ফাঁকা বাজারে আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দাম অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
আজ আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি লাল আলু ২৫ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, দেশি রসুন ৯০-১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০-১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা, ভারতীয় আদা ১৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে।
আলু পেঁয়াজের বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, “আজ সবকিছু ঈদের আগের দামে বিক্রি করছি। ঈদের আগের মালই বিক্রি করছি, নতুন করে মাল আনিনি। নতুন করে আনলে বোঝা যাবে দামের কী অবস্থা।” তিনি আরও বলেন, “ঈদের পরে আজকেই দোকান খুলেছি। সকাল থেকে মোটামুটি দুই হাজার টাকা বিক্রি করেছি। কাস্টমার নাই বললেই চলে। দোকান বন্ধ করে দিবো বিকাল চারটার দিকে।”
এসময় এক ক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ঈদের আগে আলু-পেঁয়াজ কিনে নিয়েছিলাম। আজকে আবার শুধু পেঁয়াজ কিনতে এসেছি, অন্য সবকিছু এখনও আছে। বাসায় গেস্ট আসবে বলেই কেনা।”
মাছ-মাংসের দোকানের বিক্রেতারা অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতাদের
বাজারে অন্যান্য দোকানের মতো মাছ-মাংস ডিমের দোকানও সেভাবে শুরু করেনি বিক্রেতারা। আর যারা শুরু করেছেন তারা অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতা সমাগমের।
আজ বাজারে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৬০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আল-আমিন চিকেন হাউজের বিক্রেতা বলেন, “আজই দোকান খুলেছি বিক্রি সেভাবে নেই। মানুষ ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছে। বাসায় মাংস আছে, এখন আমাদের বেচাকেনা কমে যাবে। মোটামুটি একমাস এভাবেই চলতে থাকবে। আর মুরগির মাংসের দাম হয়তো আরও কমে যাবে। দেখা যাক কাস্টমার আসে কিনা।”
এদিকে সোহেল পুডিং হাউসের বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, “সকাল দশটায় খুলেছি, এখনো মানুষই আসে নাই। খুলেছি শুধু চাইনিজ রেস্টুরেন্টের লোক আসে তাই।” সহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, “আধা বেলার জন্য খুলেছি। বেচাকেনা নাই, এখনও বাজার জমেনি। মানুষজন বাড়ি থেকে ফিরলে যদি বাজার আবার স্বাভাবিক হয়।”
এছাড়া আজ বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ ১৩০০-৩০০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৮০-৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০-৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৬০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, বাসাতি মাছ ১২০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৭০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০-১২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা নেই মুদি দোকানেও
আজ প্রতি কেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ১৬০ টাকা, ছোট মুসরের ডাল ১৫০ টাকা, মোটা মুসরের ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেশারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ৮০-৯৫ টাকা মাশকালাইয়ের ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪২০ -১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪৫ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৫২০০ টাকা, দারুচিনি ৫৬০ টাকা, লবংগ ১৪৫০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সেলিম জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. নাইম ইসলাম বলেন, “সকাল ৮টায় দোকান খুলেছি এখন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ জন কাস্টমার এসেছে। তাও খুচরা ক্রেতা। আবার দুইটার দিকে বন্ধ করে দিবো। আমরাতো দোকান খুলেছি অনেকে এখনও খুলেইনি। এক সপ্তাহ এরকম থাকবে। এখন মানুষ বাড়লে যদি বেচাকেনা কিছুটা বাড়ে।”



