ঈদের দ্বিতীয় দিনে চামড়ার বাজারে স্বস্তি, দাম বেড়েছে ১০০ টাকা
ঈদের দ্বিতীয় দিনে চামড়ার বাজারে স্বস্তি, দাম বেড়েছে

কোরবানি ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকায় পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। ঈদের দিনের তুলনায় শুক্রবার (২৯ মে) গরুর বড় ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা। তবে ছোট আকারের গরু ও ছাগলের চামড়ার দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার দাম

শুক্রবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে— মাঝারি আকারের গরুর প্রতিটি কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। বড় আকারের চামড়ার দাম উঠেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। আগের দিন ঈদের দিনে একই ধরনের চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে তুলনামূলক বড় আকৃতির পশু কোরবানি হওয়ায় চামড়ার মান ভালো থাকে। এ কারণে বাজারে দাম কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে ছোট আকারের গরুর চামড়ার বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এসব চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হয়েছে, যা ঈদের দিনের দামের সমান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারে ক্রেতা কম, তবু দাম কিছুটা বেশি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার চামড়ার পাইকারি ও মৌসুমি ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় দেখা যায়, আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিদের পক্ষে মাত্র কয়েকজন ক্রেতা চামড়া সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে রিকশা ও ভ্যানে করে মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি এবং মৌসুমি বিক্রেতারা অল্প পরিমাণ চামড়া নিয়ে আসছেন।

ঈদের দিনে যেখানে ৮-১০ জন আড়তদার ও ট্যানারি মালিক সরাসরি চামড়া কিনছিলেন, সেখানে দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। তবু বড় ও মাঝারি চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর-কষাকষির মধ্যেই বিক্রি

হাজারীবাগ এলাকা থেকে তিনটি মাঝারি ও একটি ছোট আকারের চামড়া নিয়ে লালবাগ বালুর মাঠে আসেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি শরিফুল আলম। তিনি প্রতিটি মাঝারি চামড়ার দাম ৭০০ টাকা দাবি করলেও শুরুতে আড়তদাররা কম দাম প্রস্তাব করেন। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে তিনটি মাঝারি চামড়া ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ছোট চামড়াটি ২০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে প্রায় ৭০টি কাঁচা চামড়া নিয়ে পোস্তায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. রহমান। কয়েকটি আড়ত ঘুরে তিনি মাঝারি আকারের চামড়া ৭৫০ টাকা এবং ছোট চামড়া ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

পোস্তায় বাড়ছে ব্যস্ততা

রাজধানীর পোস্তা এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আড়তগুলোতে ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কর্মীদের কাঁচা চামড়া নামানো, মান যাচাই এবং লবণ লাগানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। আরিফ হোসেন নামের একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, “আজ বেশির ভাগ চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে কিনেছি। বড় আকারের ভালো মানের চামড়ার জন্য ৯০০ টাকার বেশি দামও দিতে হয়েছে।”

ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বাজারে চামড়ার সরবরাহ কমে এলে ভালো মানের চামড়ার দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।