অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির দিকে যেতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, “আমাদের শুধু একটি অনুরোধ, দেশের নাগরিকদের কাছে একটি আবেদন—আমাদের এই সময় দিন। আমরা আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”
ঈদের পর বাজার পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার সকালে নগরের উত্তর কাট্টলীর দারুস সালাম জামে মসজিদে নিজ বাসভবনে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ঈদুল আজহার সময় সাধারণত পণ্যের দাম বাড়লেও এবার তা কমেছে। তিনি বলেন, “আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমি আশাবাদী যে দাম ধীরে ধীরে কমবে। তবে এর জন্য কিছু সময় দিতে হবে।”
আসন্ন বাজেট ও অর্থনীতির অবস্থা
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু বলেন, এই বাজেট নাগরিকদের অর্থনীতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। তিনি বাজেটের কথা মাথায় রেখে সাংবাদিকদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “শুধু উপরিভাগের প্রবৃদ্ধি দেখলেই হবে না। সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির সুফল পেতে হবে। পণ্যের দাম যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তাহলে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।”
পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতি
আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারগুলোর কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশে পূর্ববর্তী প্রশাসন থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলছে। তবুও আমাদের এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
ঈদুল আজহার তাৎপর্য
আমির খসরু আরও বলেন, ঈদুল আজha শুধু গরু কুরবানি ও মাংস খাওয়ার উৎসব নয়। তিনি বলেন, “ঈদুল আজha ত্যাগের প্রতীক। আমাদের ত্যাগের শিক্ষা নিতে হবে; এটাই মূল নীতি। নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। দেশের জন্য, জনগণের জন্য, প্রতিবেশীর জন্য এটি করতে হবে। ত্যাগের মনোভাব গ্রহণ করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “সবকিছুর ওপরে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে।” তিনি দেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।



