ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাড়তি যানবাহনের চাপে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন। এ সময় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তবে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকামুখী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় সেতুর পশ্চিম পাড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
যানজটের কারণ ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বুধবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ সামাল দিতেই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকামুখী লেনে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে বুধবার (২৭ মে) দুপুরের আগে যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ের টোল প্লাজায় ঢাকামুখী যানবাহনের টোল আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনকে অগ্রাধিকার
কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর প্রভাবে পশ্চিম পাড়ে ঢাকামুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণে সেতু কর্তৃপক্ষ দুপুরের আগে পশ্চিম পাড়ের টোল প্লাজার কার্যক্রম বন্ধ রাখে। পরে দুপুরের পর আবার চালু করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেই সায়দাবাদ এলাকায় ঢাকাগামী যানবাহনের বড় জট তৈরি হয়।
যানজটের তীব্রতা ও ভোগান্তি
টোল চালু হলেও এখনো ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলমুখী উভয় দিকেই যানবাহনের চাপ রয়েছে। বিকেল পর্যন্ত পশ্চিম পাড়ে কোথাও কোথাও গাড়ি থেমে থেমে চলতে দেখা যায়। কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের মহাসড়কে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। বিকেল চারটার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ড্রোনে ধারণ করা যানজটের চিত্রও প্রকাশ করা হয়।
ঈদযাত্রায় বার্ষিক চাপ
সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২৩ জেলার মানুষের প্রধান যাতায়াতপথ যমুনা সেতু। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের আগে তা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজারে পৌঁছে যায়। অতিরিক্ত এই চাপই প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



