সরকারি নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হলেও দেশের প্রায় ১৫০০ শিল্প-কারখানায় এখনো ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে ৪০৯টি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের। একইসঙ্গে অন্তত ১৬২টি কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে, যার অধিকাংশই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের।
বিজিএমইএ সদস্য কারখানায় বোনাস পরিশোধ প্রায় শতভাগ
তবে জানা গেছে, বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলোতে প্রায় ১০০% বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো বেতন-বোনাস পায়নি, তাদের অধিকাংশই বিজিএমইএর সদস্য নয়।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্য
শিল্পাঞ্চল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন দেশের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্প-কারখানার মধ্যে প্রায় ১৫% ২৫ মে'র মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিতে পারেনি। সরকার ২১ মে'র মধ্যে বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা তা মেনে চলেনি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের মোট ৩ হাজার ২৭০টি কারখানার মধ্যে ৪০৯টিতে এখনো বোনাস বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বেতন পরিশোধেও দেরি হচ্ছে।
শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও ২৫ মে পর্যন্ত ১৬২টি কারখানা এপ্রিল মাসের বেতন দেয়নি। এর মধ্যে ৯২টি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন আরও অনেক কারখানার অবস্থা উদ্বেগজনক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিএমইএর অবস্থান ভিন্ন
শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যের বিপরীতে বিজিএমইএ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করছে, তাদের ১ হাজার ৭৯৪টি সদস্য কারখানার মধ্যে মাত্র ৪৬টিতে বোনাস বকেয়া এবং মাত্র তিনটি কারখানায় এপ্রিলের বেতন বকেয়া রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেজওয়ান সেলিম বলেন, 'আমাদের প্রায় সব সদস্য কারখানার বেতন-বোনাস ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি কারখানাগুলোও মঙ্গলবারের মধ্যে ছুটিতে চলে যাবে।'
শ্রমিকদের উদ্বেগ
আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদের আগে অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও, অনেক কারখানায় বেতন-বোনাস না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মালিকরা জানিয়েছেন, বেতন-বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে মঙ্গলবার (২৬ মে) কিছু কারখানা খোলা রাখা হবে। যদিও বিজিএমইএ বলছে, তাদের আওতাধীন অধিকাংশ কারখানা ধাপে ধাপে ছুটি শুরু করেছে।
অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব
শ্রমিক নেতারা বলছেন, প্রতি বছর ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এবার অর্থনৈতিক চাপ, রপ্তানি আদেশে মন্দা ও ব্যাংক ঋণ সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো নগদ অর্থ সংকটের কারণে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।



