ঈদুল আজহার আগ মুহূর্তে একদিকে যেমন কোরবানির পশু কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ, অন্যদিকে গরু কাটা ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, ছুরি ও চাকু কেনার জন্যও দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সরেজমিনে রাজধানীর কাওরান বাজারের দা-বটি ও ছুরির দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতি।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
এ সময় কথা হয় দা-বটি ও ছুরির ব্যবসায়ী গনি মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে ক্রেতার সংখ্যা বাড়লেও সোমবার (২৫ মে) থেকে ভিড় আরও বেড়েছে। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী দা, বটি ও ছুরি কিনছেন। তার মতে এসব পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে, কোনও পরিবর্তন হয়নি।
আরেক বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভিড় কম থাকলেও যারা আসছেন, তাতেই তারা সন্তুষ্ট। তার আশা, আবহাওয়া ভালো হলে বিক্রি আরও বাড়বে এবং প্রতিবছরের মতো এবারও তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
ক্রেতাদের মতামত
এদিকে দা-বটি কিনতে আসা ক্রেতাদের একজন আব্দুস সালাম বলেন, আজ রাতেই কোরবানীর পশু কিনবেন। পশু কেনার আগে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য এসেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল্য আগের মতই। বেশ কয়েকমাস আগে বটি কিনেছিলেন ৪৫০ টাকা দিয়ে। এখন ৫০০ টাকা দাম চেয়েছে। তার মানে ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাবে। দাম বাড়েনি বলে মতামত দেন তিনি।
আরেক ক্রেতা সোহেলও জানান, কোরবানির সময় দা-বটি প্রয়োজন হয় বলেই তিনি কিনতে এসেছেন এবং দামেও কোনও বড় পরিবর্তন নেই।
বাজার পরিস্থিতি
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দা ও ছুরির দাম প্রকারভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। ছোট ও মাঝারি চাকুর দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে, আর বটির দাম ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের এখনও কয়েক দিন বাকি থাকায় ক্রেতা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। তাছাড়া আজ আবহাওয়া একটু খারাপ। অনেকেই পশু কেনার পর এসব সরঞ্জাম কিনতে আসবেন, ফলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে ধারণা তাদের।



