টিসিবি সরাসরি বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি করবে, লিটার ১৮৫ টাকা
টিসিবি সরাসরি বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি করবে

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবার সরাসরি বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি করতে যাচ্ছে। বর্তমানে যেখানে কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার তেল ১৯৯ টাকায় বিক্রি করছে, সেখানে টিসিবির মাধ্যমে ১৮৫ টাকায় মিলবে এই তেল। জানা যায়, ঈদের আগেই এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই বাজারে ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে দীর্ঘদিন ধরেই টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে চাল, তেল, ডালসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করে আসছে। তবে এসব পণ্য সব সময় উন্মুক্তভাবে সবার জন্য সহজলভ্য থাকে না। এবার ভোজ্যতেল বিক্রয়কারী বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানির মতোই নিজস্বভাবে আমদানি করে সরাসরি বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি করতে যাচ্ছে টিসিবি।

টিসিবির পরিকল্পনা

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসছে ঈদের আগেই এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি লিটার তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৮৫ টাকা। এতে কোনো ভর্তুকি থাকবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঈদের আগে সম্ভব হলে বাজারে তেল ছাড়া হবে জানিয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, আর তা না হলে ঈদের পরে খোলাবাজারে বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। পরিকল্পনায় রয়েছে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকায় তেল বিক্রি করা, যা ২০০ টাকার আশপাশের দামে আমদানি করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে আরও পণ্য যুক্ত হবে

জানা যায়, টিসিবির এই কার্যক্রমে ধীরে ধীরে চিনি, ডালসহ আরও বেশ কিছু নিত্যপণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে আটা এবং কিছু মসলা এই তালিকায় আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া

বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম যেখানে ১৯৯ টাকা, সেখানে টিসিবির এই উদ্যোগে লিটারে প্রায় ১৪ টাকা কমে তেল পাওয়া যাবে। এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির হবে বলে জানান ভোক্তারা। তারা বলেন, টিসিবি কম দামে পণ্য বিক্রি করলে বাজারে অন্যান্য কোম্পানিও দাম কমাতে বাধ্য হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি ছাড়াই এই বিক্রি কার্যক্রম বাজারে মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব কমাবে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, টিসিবির এই উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে বাজারে সিন্ডিকেট এবং অবৈধভাবে দাম বাড়ানো ও কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে দেশের ভোজ্যতেলের বাজার মূলত পাঁচটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।