ঈদ আসলেই নাড়ির টানে বাড়ি ছুটে রাজধানীবাসী। অন্যান্য সময়ের মতো এবারের ঈদুল আজহায় পথেও বাড়বে যাত্রীদের চাপ। সঙ্গে রয়েছে পশু বহনকারী গাড়ির চাপও। এতে করে বাড়তে পারে ভোগান্তি।
সড়কপথে চাপ ও যানজটের শঙ্কা
সবচেয়ে বড় শঙ্কা মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। ঈদের ছুটি ঘনিয়ে এলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরও বাড়তে পারে। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে সাতটি মহাসড়কের ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্পট ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কয়েকটি অংশে চলমান উন্নয়নকাজও এবার ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর এবং ময়মনসিংহের কয়েকটি অংশে সড়ক সংস্কার ও ইউটার্ন নির্মাণকাজের কারণে যান চলাচল ধীরগতির হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ঈদের আগে চাপ বাড়লে ওই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হতে পারে।
পশুবাহী গাড়ির চাপ
এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়ায় মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পশুর হাটকেন্দ্রিক যানজটও বাড়তি ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
রেলপথে টিকিট সংকট ও অতিরিক্ত ভিড়
রেলপথেও চাপ বাড়ার শঙ্কা সব সময়ই রয়েছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রির শুরুতেই অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকে টিকিট না পেয়ে বিকল্প উপায়ে যাত্রার চেষ্টা করতে পারেন। টিকেট না পেয়ে ট্রেনে অনেকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ, ছাদে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবেই বাড়িতে যেতে দেখা যায়।
নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী
টানা বৃষ্টি ও কাল বৈশাখী এবারের নৌপথের ঈদযাত্রায় ভোগাতে পারে। এছাড়া সদরঘাটসহ বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। বাড়তি যাত্রী নিতে গিয়ে লঞ্চডুবি, ট্রলার থেকে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে থাকে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি
আবহাওয়া অধিদফতর ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দিয়েছে। খারাপ আবহাওয়া দেখা দিলে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীপথে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ভারি বৃষ্টি হলে মহাসড়কের ভাঙাচোরা খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো মরণ ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা কী বলছেন
যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নিয়মিত একই ধরনের প্রস্তুতিমূলক সভা হলেও সেখানে বাস্তবভিত্তিক নতুন সমস্যাগুলো যথাযথভাবে আলোচনা হয় না। তার মতে, এবার বৃষ্টি ও সড়কের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন পশুর হাট যানজট ও ভোগান্তি বাড়াতে পারে, তাই আগাম পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার।
হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (পূর্ব) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে সাতটি মহাসড়কের ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করে আগাম নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এসব স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন, সিসিটিভি মনিটরিং ও জরুরি মোটরসাইকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিকল যানবাহন, টোল প্লাজায় চাপ ও সড়ক সংস্কারকাজের কারণে যানজটের ঝুঁকি থাকলেও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। আশা করা হচ্ছে, এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে ঈদযাত্রায় যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকবে।
সড়ক, নৌপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ কুমিল্লায় সাংবাদিকদের বলেন, “চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে।” তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে।



