আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরবানির পশু পরিবহনে দৌলতদিয়া ঘাটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পশু ব্যবসায়ী ও চালকদের। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পারাপারের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ঘাটে দীর্ঘ যানজটে পশুদের দুর্ভোগ
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার জুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য পশুবাহী ট্রাক। প্রচণ্ড গরমে ট্রাকের ভেতরে থাকা কুরবানির পশুগুলো হাঁপিয়ে উঠছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা পশুর গায়ে পানি ছিটিয়ে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকায় পশুগুলোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার ট্রাকচালক উদ্দিন শেখ বলেন, “আমি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ঘাটে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। বলা হয়েছিল পশুবাহী গাড়ি দ্রুত পারাপার করা হবে, কিন্তু এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি। প্রচণ্ড গরমে পশু সামলানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” কুষ্টিয়ার গরুর বেপারি হাবিব ও উজ্জ্বলসহ পাংশা ও ফরিদপুর থেকে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের আশ্বাস দিলেও সেই সুবিধা মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গরুগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।
ফেরি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, “বর্তমানে তীব্র গরম পড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কুরবানির পশুগুলো যাতে অসুস্থ না হয় সেজন্য দিনের বেলায় পশুবাহী গাড়ি কম আসছে। গরম এড়িয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটে পৌঁছানোর জন্য অধিকাংশ পশুবাহী গাড়ি বিকাল থেকে নদী পারাপারের জন্য আসছে। এ কারণে সন্ধ্যার পর গাড়ির চাপ বেড়েছে। এছাড়া দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসও দিনের বেলায় কম এসে বিকাল থেকে একযোগে আসছে। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
ঈদ সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে অতিরিক্ত আরও ৪টি ফেরি বহরে যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।



