রোজার মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩২৮ মিলিয়ন বা ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলারে।
আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের অবস্থা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩০ হাজার ৫৮১ মিলিয়ন বা ৩০.৫৮ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাব পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পূর্ববর্তী রিজার্ভের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০.২৮ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভের এই সামান্য বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল ২০২১ সালের আগস্ট মাসে। সে সময় রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। তখন আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪.২০ টাকা।
রিজার্ভ হ্রাসের সময়কাল
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ কমে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। আইএমএফ পদ্ধতিতে এই পরিমাণ ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় ডলারের বাজার মূল্য ১২০ টাকার বেশি হয়ে যায়, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল।
রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সরকারের নীতিমালা
এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা গ্রহণ করে বৈদেশিক রিজার্ভ পুনঃউদ্বার শুরু করে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণ নীতি: সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহজতর করার উদ্যোগ নেয়।
- আমদানি বিধিনিষেধ শিথিলকরণ: আমদানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হয়।
- প্রবাসী আয়ে উৎসাহ: প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়।
নীতিমালার প্রভাব ও বর্তমান অবস্থা
এই নীতিমালার ধারাবাহিক প্রভাবে দেশে ডলারের আগমন বাড়তে থাকে, ফলে রিজার্ভে ক্রমাগত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারের এই সঠিক নীতিমালা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে রোজার মাসে এই রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।
