টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনে গত ২৩ জুন থেকে চোখের পলকে মসজিদ, ঘরবাড়ি ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঞা।
ভাঙনে নিঃস্ব পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
ভাঙনের কারণে অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সুফিয়া বেগম বলেন, ‘ইতোপূর্বে আমাদের বাড়ি দুইবার ভেঙেছে। আবারও আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা লাভবান হচ্ছেন।’
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত খালেকুজ্জামান বলেন, ‘চোখের পলকে মসজিদ, ঘরবাড়ি, সড়ক যমুনা গিলে খেল। অনেকেই ঘর থেকে পোশাক, নগদ টাকা, আসবাবপত্র বের করার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিম্নমানের কাজের কারণে বারবার ভাঙছে বাড়িঘর। সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকার লুৎফর জানান, ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হলেও তারা নামেমাত্র জিওব্যাগ ফেলেছে, কোনো সুরাহা হয়নি। সঠিক পরিমাণে জিওব্যাগ ফেললে ভাঙনে অনেকেই বাড়িছাড়া হতো না।
শুধু সলিমাবাদ নয়, যমুনা পাড়ের পাঁচ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ নদী ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন। তারা যমুনায় স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ইছাপাশা এলাকায় সাড়ে তিনশ মিটার এলাকায় ধলেশ্বরী নদী ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈদ উদ্দিন বলেন, ‘সলিমাবাদ এলাকায় যমুনার মাঝখানে চর পড়েছে, এতে এদিকে ভেঙেছে। ভাঙনরোধে আমরা ব্যবস্থা নিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। এছাড়াও সলিমাবাদ এলাকায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যমুনার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে ৯ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নদীর পাড়ের মানুষের আতঙ্ক অনেকটাই কেটে যাবে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঞা বলেন, ‘আমি একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যমুনার ভাঙনে ৫০টি ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গাছপালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করতে সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।’



