হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরের আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা আজ বুধবার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তাঁরা সড়কে আলু ঢেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
মানববন্ধন ও অবরোধ
আজ বেলা ১১টার দিকে নগরের মডার্ন মোড়ে রংপুর জেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। একই দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।
আলুচাষিদের অভিযোগ, গত বছর প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগারভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন হিমাগার মালিকেরা। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বক্তব্য ও দাবি
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান। বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান জালালসহ অন্যরা।
তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। হিমাগার মালিকেরা ৪৩৫ টাকা ভাড়া কাটতেছে এখন। আমাদের ওপর একটা জুলুম চাপায় দেওয়া হচ্ছে।’
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ রংপুর বিভাগে হয়। অথচ এ অঞ্চলে আলু সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে প্রতিবছর অনেক কৃষক সংরক্ষণের সুযোগ না পেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন। যাঁরা হিমাগারে আলু রাখেন, তাঁদেরও বাড়তি ভাড়ার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকট
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা। বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে হিমাগারভাড়া ও বস্তার খরচ মিলিয়ে সংরক্ষণ ব্যয় পড়ছে আরও প্রায় ১০ টাকা। ফলে উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুর খরচ ২৫ টাকার বেশি দাঁড়াচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধি তাঁদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় রংপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে। তাঁরা জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কৃষকদের নিয়ে এ বিষয়ে মতবিনিময় করা হবে। পরে দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, বেলা একটার দিকে অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।



