চলতি মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বাদ যাচ্ছে না সারা বছরের জন্য নিষিদ্ধ থাকা অভয়াশ্রমগুলো। রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের মাছ। স্থানীয়রা এসব অভিযোগ করেছেন।
অবৈধ মাছ শিকার ও প্রশাসনের ব্যবস্থা
হ্রদে অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে উল্লেখ করে অভয়াশ্রমগুলোতে সীমানা নির্ধারণসহ বয়া স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত হতে তিন মাসের জন্য সব ধরনের মাছ আহরণ, বিপণন, পরিবহণ ও বাজারজাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন, বিএফডিসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন জেলেদের অনেকে। এমনকি প্রজনন মৌসুমে অভয়াশ্রমের সীমানার ভেতরেও কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকারক সরঞ্জাম ব্যবহার করে মা মাছ ও পোনা শিকার করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। আবার পুকুরে চাষ করা মাছ বলে সেগুলো প্রকাশ্য বাজারেও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জাল বাজেয়াপ্ত
তবে হ্রদে অবৈধ মাছ শিকার প্রতিরোধে নৌ-পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবৈধ জাল বাজেয়াপ্তসহ নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় বিএফডিসির অধীন সাতটি অভয়াশ্রম বা মাছের নিরাপদ আবাসস্থল রয়েছে, যেগুলোতে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। অভয়াশ্রমগুলো হচ্ছে: রাঙামাটি ডিসি বাংলোসংলগ্ন হ্রদ এলাকা, বিএফডিসি (কাপ্তাই হ্রদ) রাঙামাটি সদর অফিসসংলগ্ন হ্রদ এলাকা, লংগদু উপজেলা কমপ্লেক্স হ্রদ এলাকা, নানিয়ারচরের ছয়কুড়ি বিল, রাঙামাটি রাজবন বিহার হ্রদ এলাকা, কাপ্তাই উপজেলার নৌবাহিনী ক্যাম্পসংলগ্ন হ্রদ এলাকা ও বিলাইছড়ি রাইংখিয়ং চ্যানেলসংলগ্ন হ্রদ এলাকা।
বয়া স্থাপনের উদ্যোগ
বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, “প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকারে কাপ্তাই হ্রদে প্রতিবছর রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চলতি মৌসুমে তা ২৪ এপ্রিল হতে পরবর্তী তিন মাসের জন্য বলবৎ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে হ্রদে অবৈধ মাছ শিকারের ওপর এবং বয়া চিহ্নিত অভয়াশ্রমগুলোতে কড়া নজরদারি রাখা রয়েছে।”
বিএফডিসির অধীন রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় মোট ৭টি অভয়াশ্রমের মধ্যে ৪টি অভয়াশ্রমের সীমানায় বয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অভয়াশ্রমের সীমানার ভেতর সারা বছর মাছ ধরা ও সব ধরনের নৌযান চলাচলে সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বলা আছে। ১ জুলাই থেকে চারটি অভয়াশ্রমের সীমানা চিহ্নিত করে বয়া স্থাপনার কাজ চলছে।
এগুলোর মধ্যে বিএফডিসি ফিশারিঘাটের সামনে হ্রদ এলাকা, লংগদু উপজেলায় নবঘোষিত অভয়াশ্রম, বীরশেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ সমাধিচত্বর মৎস্য অভয়াশ্রম এবং জেলা প্রশাসকের বাংলো সংলগ্ন অভয়াশ্রম। বয়া স্থাপন কার্যক্রম চলাকালে ওইসব এলাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে অতিক্রম করার জন্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।



