ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীতে পানির উচ্চপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে নদী দুটির পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ইতিমধ্যে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির বর্তমান চিত্র
পাউবোর তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে মেঘনা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পানির স্তর আরো বাড়তে পারে।’
বন্যা পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি
পাউবো জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় মাঝারি থেকে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জনগণকে ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীর পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত ও পেঁপে বাগান। সিংগাইর উপজেলার এক কৃষক জানান, ‘পানিতে তলিয়ে গেছে ২০ বিঘা জমির পেঁপে ক্ষেত। এখনি বড় বন্যা হলে ফসল পুরোপুরি নষ্ট হবে।’
অন্যান্য ঘটনা
এদিকে সিরাজদিখান উপজেলায় নদী থেকে একটি ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ধরা খেয়েছেন এক বিকাশ কর্মকর্তা। পুলিশ জানায়, তিনি নিজেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটান এবং পরে গ্রেফতার হন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।



