গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি কারখানা ইউনিট একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই বন্ধ কার্যকর করা হয়েছে।
বন্ধের কারণ ও নোটিশ
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কর্তৃপক্ষ কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গ্যাস সংযোগ বন্ধ, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশের পূর্বাভাস না থাকা, বারবার অযৌক্তিক শ্রম আন্দোলন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস এবং সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ার কারণে কারখানা নিয়মিত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে মালিকের পক্ষে আর্থিকভাবে কারখানা পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কারখানার পরিচালক মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্ধ হওয়া পাঁচটি ইউনিট হলো—এ্যাপারেল-২১ লি., ফমকম ফ্যাশন লি., ফমকম ডাইং লি., ফমকম প্রিন্টিং লি. এবং ফমকম নিটিং লি.। কারখানাটি গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত।
শ্রমিকদের দাবি ও মানববন্ধন
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টায় লিথী গ্রুপের ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বন্ধ কারখানা চালু ও বকেয়া বেতনের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে গত ৭ জুন থেকে ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ মে মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ২৩ জুন তারিখ নির্ধারণ করলেও তা পরিশোধ করতে পারেনি।
শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ, কারখানা পুনরায় চালু এবং সব পাওনাদি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বলেন, “লিথী গ্রুপের সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংকট কাটাতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
সরকারি উদ্যোগ
গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এমএম মামুন-অর-রশিদ জানান, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে টঙ্গীতে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারখানা বন্ধ হলেও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, সব বিভাগের কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে পাওনা পরিশোধ করা হবে। নোটিশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কারখানা চালু ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পুরোনো দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



