পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জেলের জালে ধরা পড়া ২০ কেজি ওজনের একটি মহাবিপন্ন বাগাড় মাছ নিলামে ৩৬ হাজার টাকায় কিনে পরে ৩৮ হাজার টাকায় এক ইতালিপ্রবাসীর কাছে বিক্রি করেছেন মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। রোববার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়।
জালে বাগাড় ধরা পড়ার ঘটনা
রোববার ভোররাতের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনার দৌলতদিয়া চর করনেশনা এলাকায় জেলে নিয়ামত হালদারের ফাশন জালে বাগাড়টি ধরা পড়ে। স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোররাতে নদীতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের জেলেরা মাছ শিকারে নামেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়ার জেলে নিয়ামত হালদারও মাছ ধরতে যান। তিনি পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় দৌলতদিয়া চর করনেশনা এলাকায় ফাশন (বড় ফাঁসওয়ালা) জাল ফেলে অপেক্ষা করতে থাকেন। ভোরের দিকে জালে বড় ধরনের ঝাঁকি দিলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই বড় একটি বাগাড় মাছ দেখতে পান।
নিলাম ও বিক্রি
পরে বিক্রির জন্য মাছটি দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের আনুখার আড়তে নিয়ে আসেন। মাছটি ওজন দিয়ে দেখা যায় ২০ কেজি ১০০ গ্রাম। পরে নিলামে তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ মাছটি কিনে নেন। মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, ‘সকালে বাগাড়টি নিলামে তুললে আমিও অংশ নিই। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ৩৬ হাজার টাকায় কিনি। পরে আমার ফেসবুকে মাছের ভিডিও আপলোড করি। ভিডিওটি দেখে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ইতালিপ্রবাসী আবু সায়েম ফোন করে মাছটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে কেজি প্রতি ১০০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।’
ইলিশও বিক্রি
এ ছাড়া জেলেদের জালে ধরা পড়া পদ্মার প্রায় ১১ কেজি ওজনের ৬টি ইলিশ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওই ইতালিপ্রবাসী মাছগুলো কিনে নেন। পদ্মা নদীর জেলেদের জালে ধরা পড়া ছয়টি ইলিশ বিক্রির জন্য মাছ বাজারের রেজাউল মণ্ডল ও দেলোয়ার সরদারের আড়তে আনা হয়। এ সময় রেজাউল মণ্ডলের আড়ত থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের দুটি ইলিশ ৪ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে এবং দেলোয়ার সরদারের আড়ত থেকে প্রায় ৭ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও চারটি ইলিশ ৪ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে কেনেন শাহজাহান শেখ। শাহজাহান শেখ বলেন, বাগাড়টির পাশাপাশি ছয়টি ইলিশ ওই ইতালিপ্রবাসী ৪ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ৪৭ হাজার টাকায় কেনেন। পরে সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাগাড় ও ইলিশগুলো গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
আইন ও পরিবেশ
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের তালিকা অনুযায়ী, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বাগাড় শিকার, ধরা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইনকে উপেক্ষা করে রাজবাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার এবং নিলামে বিক্রি অব্যাহত আছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে প্রতিদিন সকালে পদ্মা ও যমুনা নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে মহাবিপন্ন বাগাড় বিক্রি হচ্ছে।



