দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিল অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নদীখাতের কারণে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে করে এই জলাভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
চলনবিলের বর্তমান অবস্থা
চলনবিলের আয়তন গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৯৬০-এর দশকে যেখানে প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিল, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ বর্গকিলোমিটারে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীখাত ও কৃষি জমি তৈরির কারণে এই সংকোচন ঘটছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব
চলনবিল সংকুচিত হওয়ার কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। বিশেষ করে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিল সংকুচিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও খরার মতো সমস্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, “চলনবিলের টিকে থাকা এখন সময়ের দাবি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে এখানে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এলাকাটি সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে চলনবিল পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।”
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
চলনবিল রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, বিলের আশপাশে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি নদীখাত বন্ধ ও বিলের পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও চলনবিল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই বিল তাদের জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।



