ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, অ্যামোনিয়ার সংকটে কৃষি খাতে চাপ
ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, অ্যামোনিয়ার সংকট

ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, অ্যামোনিয়ার সংকটে কৃষি খাতে চাপ

দেশের অন্যতম প্রধান ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিএপি সার কারখানা লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়ার সংকটকে এই উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিএপিএফসিএলের প্রশাসন বিভাগের প্রধান ও ম্যানেজার (প্রশাসন) আলমগীর জালিল বলেন, “অ্যামোনিয়ার সংকটের কারণে শনিবার রাত ৮টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অ্যামোনিয়া আমাদের কারখানার একটি প্রধান কাঁচামাল। আমরা সাধারণত চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলি সার কোম্পানি লিমিটেড (কেএএফসিও) থেকে অ্যামোনিয়া পেয়ে থাকি। বর্তমানে উভয় কারখানাই বন্ধ রয়েছে। যতদিন না তারা পুনরায় চালু হয়ে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করবে, ততদিন আমাদের ডিএপিএফসিএল বন্ধ রাখা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।”

অন্যান্য কারখানার অবস্থা

আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি প্রধান সার কারখানা সিইউএফএল এবং কেএএফসিও গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। এই দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় ডিএপিএফসিএল-এর অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারখানার গুরুত্ব ও উৎপাদন ক্ষমতা

সূত্রমতে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানায় দুটি পৃথক ইউনিট (ডিএপি-১ এবং ডিএপি-২) রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন ডিএপি সার। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৬ সালে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে এই সুবিধাটি দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে থাকে।

কৃষি খাতে প্রভাব

ডিএপিএফসিএল-এর উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সার সংকটের কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।