এসসিবি ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ১১তম কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬
১১তম কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ শুরু হচ্ছে এসসিবি ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে

এসসিবি ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ১১তম কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) বাংলাদেশ এবং চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে ২০২৬ সালের জন্য ১১তম বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে কৃষি অ্যাওয়ার্ড। দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই আয়োজন করে আসছে। এবারের আয়োজনেও গতবারের মতো মোট ১৩টি শ্রেণিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে, যেখানে সব ক্যাটাগরিতে মোট ৩৬ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার বরাদ্দ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য

রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, এসসিবি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় এবং কান্ট্রি হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিটপী দাশ চৌধুরী

ফরিদুর রেজা সাগর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "শুধু পুরস্কার পাওয়া নয়; এই স্বীকৃতি কৃষি উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তাদের দায়িত্ববোধ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি করবে। কৃষক যত এগিয়ে যাবেন, বাংলাদেশও ততটা এগিয়ে যাবে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাইখ সিরাজ বলেন, "দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এই খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, কিন্তু কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ আজও খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল। এই আয়োজন কৃষিতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজকে সামনে এনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাসের এজাজ বিজয় তাঁর বক্তব্যে জোর দেন যে, "কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, বরং রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিশাল সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপও কৃষির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে এই খাতে এখনো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি, বিশেষ করে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"

পুরস্কারের শ্রেণিবিভাগ ও সময়সূচি

এবারের কৃষি অ্যাওয়ার্ডে নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলোতে পুরস্কার প্রদান করা হবে:

  • ব্যক্তি পর্যায়ে আজীবন সম্মাননা (সাত লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার)
  • সেরা নারী কৃষক
  • সেরা পুরুষ কৃষক
  • পরিবর্তনের নায়ক (নারী বা পুরুষ)
  • সেরা সাংবাদিক (কৃষি)
  • জুরি স্পেশাল (বিচারকমণ্ডলীর বিশেষ সম্মাননা)
  • সেরা মেধাবী সংগ্রামী কৃষক (পুরুষ)
  • সেরা মেধাবী সংগ্রামী কৃষক (নারী)
  • জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক শ্রেষ্ঠ কৃষক (নারী বা পুরুষ)
  • ছাদ কৃষি
  • প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কৃষি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান
  • কৃষি সহায়তা ও বাস্তবায়নে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান
  • বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান

নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে শহরভিত্তিক কৃষিকে উৎসাহিত করতে গতবারের মতো এবারও ছাদ কৃষি শ্রেণি যুক্ত করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে, যা ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ১১ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জমা হওয়া মনোনয়ন থেকে প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করা হবে, এরপর মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও বিচারকদের পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম নির্ধারণ করা হবে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলতি বছরের ১৬ অথবা ১৭ অক্টোবর তারিখে আয়োজিত হবে।