অ্যামোনিয়া সংকটে ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, কৃষি খাতে প্রভাবের আশঙ্কা
অ্যামোনিয়া সংকটে ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধে ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন স্থগিত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে কারখানাটির সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।

অ্যামোনিয়া সরবরাহ সংকটের পেছনের কারণ

কারখানার কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে পার্শ্ববর্তী দুটি সার কারখানা থেকে সরবরাহকৃত অ্যামোনিয়ার ওপর। এই দুটি কারখানা হলো চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)

তবে গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এই দুটি কারখানা থেকে ডিএপি সার কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহও বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ডিএপি কারখানা তাদের মজুতকৃত অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রেখেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মজুত শেষে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত

মজুতকৃত অ্যামোনিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় গতকাল রাতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনুল হক এই বিষয়ে বলেন, ‘গত ৪ মার্চ থেকে আমরা অ্যামোনিয়া পাচ্ছি না। এরপরও আগের মজুত দিয়ে কারখানায় উৎপাদন চলে আসছিল। মজুত শেষ হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যখনই অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে, পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারখানার গুরুত্ব ও উৎপাদন ক্ষমতা

ডিএপি সার কারখানাটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার এই কারখানাটি স্থাপন করে, যা নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সংবলিত সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০০৬ সাল থেকে এই কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটিতে ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা বিদ্যমান। এই উৎপাদন ক্ষমতা দেশের কৃষি খাতের সার সরবরাহে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

কৃষি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট কৃষকদের ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কৃষি খাতের এই সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।