পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের জন্য ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের পক্ষে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সেলিমুজ্জামান মোল্যার একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ
পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ী উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, সঠিক সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এরইমধ্যে এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'শুধু অপচয় রোধ করা গেলে পেঁয়াজে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাব।'
ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে ১,২৬০টি মেশিন
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে প্রকল্প প্রণোদনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে কিছু এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
- পাংশা উপজেলায় ৫০৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে।
- কালুখালি উপজেলায় ২৬০টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে।
- বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া, এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর কর্তৃক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন ও বিতরণ কার্যক্রম উন্নয়ন শীর্ষক এই প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় কমানো এবং দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।



