টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কৃষক কার্ড ও চারা বিতরণ, ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পৌঁছাবে কার্ড
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কৃষক কার্ড বিতরণ, লক্ষ্য ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কৃষক কার্ড বিতরণ, কৃষকদের সচ্ছলতায় দেশের উন্নয়ন জোরদার

টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে তিনি টাঙ্গাইলের ১৫ জন কৃষক-কৃষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।’

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সুবিধা ও আত্মনির্ভরশীলতা

উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সে জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, যা কৃষকদের অবস্থান পরিবর্তনে সহায়ক হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও কৃষিঋণ মওকুফ

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পূর্বে দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি ছিল।’ তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুবিধা পেয়েছেন। আজ মাত্র ২২ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়া হলেও, ‘ইনশা আল্লাহ ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক রয়েছে। এই ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পয়লা বৈশাখের তাৎপর্য ও কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্ক

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কিত।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, কৃষকরা তাদের হিসাবের খাতা নতুন করে খুলতেন, যা থেকে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের সূচনা। কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠান এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে কৃষককে সেচের সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), এফএওর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জিয়াউকুন সি, কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষক আবুল হোসেন ও কিষানি জুলেখা আক্তার বক্তব্য দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।