চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন: ইলিশ উৎপাদনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান
চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ: ইলিশ উৎপাদনে ভূমিকা রাখার আহ্বান

চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন: ইলিশ উৎপাদনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সারাদেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জাটকা উৎপাদন হয়, তার অধিকাংশই চাঁদপুরে উৎপাদিত হয়। তাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এখানকার ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইলিশ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা ও সরকারের পদক্ষেপ

মন্ত্রী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে তিন নদীর মোহনায় জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পূর্বে দেশে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়েছে তার ২০ শতাংশ হয়েছিল ইলিশ। মাঝের সময়ে ইলিশের উৎপাদন কমলেও এখন পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের উপরে ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৩-০৪ সাল থেকে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে।

৭ এপ্রিল থেকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এবারের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী। প্রতিপাদ্যের আলোকে নদীভিত্তিক এ অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন সুরক্ষা এবং জাটকা নিধন রোধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধ ও সরকারের লক্ষ্য

মন্ত্রী বলেন, নেট ফ্যাক্টরিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র নেট তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে কিছু দুষ্ট লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে। কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তাই সরকার চায় বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন করবে।

তিনি আরও বলেন, নদী দূষণ এই দেশে অনেক ক্ষতি করছে। যে কোনো অবস্থাতে নদীর দূষণ প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি খাত শক্তিশালী হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের কৃষি খাত মজবুত না হবে, ততদিন দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আসন্ন পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড চালু করা হবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্যা সেলিম, নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে মন্ত্রী চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা পরিদর্শন করেন এবং চমৎকার এই প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও বৃদ্ধিতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।