হাকালুকি হাওরে বন্যা: আধা পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা
হাকালুকি হাওরে বন্যা: বোরো ধান তলিয়ে গেছে

হাকালুকি হাওরে বন্যার কবলে আধা পাকা বোরো ধান: কৃষকদের দুশ্চিন্তা তীব্র

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত হাকালুকি হাওরে গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে দুটি বিলের প্রায় ১০০ বিঘা জমির আধা পাকা বোরো ধান সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে গেছে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে।

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সম্মিলিত আক্রমণ

ভুক্তভোগী কৃষকদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটানা কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়াও, হাওরের সঙ্গে সংযুক্ত জুড়ী, কণ্ঠিনালা, গোগালিছড়া এবং ফানাই নদী দিয়ে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হয়ে হাওর এলাকায় পৌঁছায়। শনিবার সকাল থেকেই হাকালুকি হাওরের উগলা ও হাসইরডিবি বিলে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং দুপুর নাগাদ দুটি বিলের সমস্ত ধানখেত পানির নিচে চলে যায়।

কৃষকদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা ও আহ্বান

হাওরপারের ভূকশিমইল ইউনিয়নের মহেষগৌরী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাফেজ আজ দুপুরে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিল দুটির বর্তমান অবস্থা দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমস্ত ধান পানির নিচে চলে গেছে এবং ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক কৃষক পানির নিচে থাকা আধা পাকা ধান কেটে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। হাফেজ আরও সতর্ক করে দেন যে, পানি বাড়তে থাকায় পাশের মেধা ও চাঙ্গুয়া বিলের ফসলও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যেখানে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফসল রক্ষার জন্য তিনি কৃষকদেরকে কোদাল-টুকরি নিয়ে উঁচু মাটির বাঁধ তৈরির উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার জরুরি আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত ক্ষতি ও উদ্বেগ

মহেষগৌরী গ্রামের কৃষক আমজদ আলী প্রথম আলোকে জানান, উগলা বিলে তার আট বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে রয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি দ্রুত পানি না নামে, তাহলে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তার অর্থনৈতিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য ও আশ্বাস

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এবার উপজেলার হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় মোট ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ভারী বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে হাওর এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করতে পারে, তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং ফসলের তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। জসিম উদ্দিন আরও জানান, তিনি এই বিষয়ে খোঁজ নেবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সম্প্রসারিত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই ঘটনা শুধুমাত্র হাকালুকি হাওরেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সিলেট বিভাগের অন্যান্য হাওর অঞ্চলেও অনুরূপ সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনার কারণে এমন বন্যার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে, যা কৃষি খাতকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে ফেলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।