খাগড়াছড়ির হালদা নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদে মৎস্য বিভাগের অভিযান
হালদা নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদে মৎস্য বিভাগের অভিযান

খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় হালদা নদীর উজানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ঘটনায় মৎস্য বিভাগের তৎপরতা দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাছ ধরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, যাতে বাঁধ ভেঙে ফেলা হয় এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

অভিযানের সময় ও স্থান

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল দুপুরে মানিকছড়ি উপজেলার দশবিল এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে স্থানীয় যুবকরা নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মৎস্য বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য

মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হালদা নদী দেশের একটি অমূল্য সম্পদ, এবং এর সুরক্ষায় আমরা নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চালাচ্ছি। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ এবং ৫ নভেম্বর ২০২৫-এর হালদা নদী সংরক্ষণ গেজেট অনুসারে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। আমরা এলাকাবাসীকে সতর্ক করেছি যেন নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের পটভূমি

এই অভিযান হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজু আহমেদের নির্দেশে এবং মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়ার সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়।

হালদা নদীর গুরুত্ব

উল্লেখ্য, হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সরকার এটিকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। গেজেটে হালদার উজান অংশ, বিশেষ করে মানিকছড়ি এলাকায়, বাঁধ নির্মাণ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাছ ধরা এবং মাছের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো কর্মকাণ্ড অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৎস্য বিভাগের এই উদ্যোগ হালদা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।