নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য
সুবর্ণচরে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সাফল্য

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে বিপ্লব

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে কৃষকরা অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন। এই আধুনিক পদ্ধতিতে খেতজুড়ে হলুদ ও নীল রঙের আঠাযুক্ত প্লাস্টিক বসানো হয়েছে পোকা দমনের জন্য, যা কৃষি খাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কৃষক আবুল হাশেমের অভিজ্ঞতা

আবুল হাশেম, উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের এক কৃষক, প্রায় এক দশক ধরে তরমুজ চাষ করছেন। তিনি বলেন, 'আগে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে লাভ হতো না, এবার মালচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি। এতে খরচ কমেছে এবং ফলন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।' তিনি মালচিং পেপার, ফেরোমন ফাঁদ এবং আঠাযুক্ত প্লাস্টিক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছেন।

মালচিং পদ্ধতি কী এবং কীভাবে কাজ করে

মালচিং পদ্ধতি হলো মাটিতে পচনশীল পলিথিন বা বিশেষ কাগজ দিয়ে চাষের বেড ঢেকে দেওয়া। এই কাগজের এক পাশ কালো এবং অন্য পাশ রুপালি রঙের। কালো পাশ নিচে রেখে মাটি ঢেকে দিলে সূর্যের তাপেও মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফলে সেচের পানি কম লাগে। রুপালি পাশ ওপরে থাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রব হ্রাস পায় এবং আগাছা জন্মায় না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য কৃষকদের সাফল্য

শুধু আবুল হাশেম নন, সুবর্ণচরের অনেক কৃষকই এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। মোজাম্মেল হক নামের আরেক কৃষক বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে খরচের দ্বিগুণের বেশি লাভের আশা করছেন। আমির হোসেনের মতো কৃষকরাও পাশের খেতে ভালো ফলন দেখে আগামী বছর এ পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, এবার সুবর্ণচরে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। সরকারি উদ্যোগে ৩৮টি প্রদর্শনী প্লটে মালচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে পচনশীল মালচিং পেপার, ফেরোমন ফাঁদ এবং আঠাযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তায়ও অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

মালচিং পদ্ধতির সুবিধাসমূহ

  • খরচ কম: শ্রমিক ও কীটনাশক ব্যয় হ্রাস পায়।
  • ফলন বৃদ্ধি: সনাতন পদ্ধতির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ফলন সম্ভব।
  • পানি সাশ্রয়: সেচের পানির প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।
  • পরিবেশবান্ধব: পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস পায়।
  • লবণাক্ততা সমস্যা হ্রাস: মাটির গুণাগুণ বজায় থাকে।

সুবর্ণচরে মালচিং পদ্ধতির এই সাফল্য কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষককে উৎসাহিত করতে পারে।