মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বারোমাসি শসা চাষে লোকসান, হতাশ কৃষকদের আর্থিক সংকট
সিংগাইরে শসা চাষে লোকসান, কৃষকদের হতাশা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বারোমাসি শসা চাষে কৃষকদের আর্থিক লোকসান

মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় বারোমাসি শসা চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। নিম্নমানের বীজ ও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফলনের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না, যা তাদের মধ্যে গভীর হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

উচ্চ খরচ ও কম ফলনের দ্বন্দ্ব

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শসা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিক খরচসহ মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শসার আবাদ হলেও কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন না। অনেকেই তাদের জমি থেকে শসা বিক্রি করতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ কম ফলনের কারণে উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না।

কৃষকদের বক্তব্য: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও ক্ষতি

সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের চাষি রাজিব মোল্লা বলেন, "সিংগাইর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডার থেকে বারোমাসি লালতীর জাতের বীজ নিয়ে ৪০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু গাছ মাচায় ওঠার পরই হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো শসাই বিক্রি করতে পারিনি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই দোকান থেকে বীজ নেওয়া মিনহাজ উদ্দিন বলেন, "৫২ শতাংশ জমিতে শসা চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকার শসা বিক্রি হয়েছে। ফলন কম হওয়ায় গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

সফিকুল ইসলাম বলেন, "অনলাইন থেকে হোয়াইট গোল্ড বীজ নিয়ে ২৬ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। গাছ ভালো থাকলেও ফলন খুব কম। খরচের অর্ধেকও উঠবে না বলে মনে হচ্ছে।"

অন্যান্য কৃষকদের অবস্থা: একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি

জয়মন্টপ ইউনিয়নের বাহাদিয়া গ্রামের তোফাজ্জল মিয়া বলেন, "১ বিঘা জমি থেকে মাত্র ১২’শ টাকার শসা বিক্রি করতে পেরেছি।" কামাল বলেন, "১ বিঘা জমিতে মাত্র ৬ মণ শসা পেয়েছি, আগে কখনো এত কম ফলন হয়নি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাহেদ মিয়া বলেন, "৫ বিঘা জমিতে শসা চাষ করেও ভালো ফলন পাইনি।" মহসিন সিকদার বলেন, "ইন্ডিয়ান ক্রস জাতের বীজ অনলাইন থেকে নিয়ে চাষ করেছি, কিন্তু ফলন সন্তোষজনক নয়।"

সামগ্রিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই অবস্থা সিংগাইর উপজেলার কৃষি খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষকরা তাদের জীবিকা নির্বাহে সংকটে পড়েছেন এবং ভবিষ্যতে শসা চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা নিম্নমানের বীজের সরবরাহ ও কৃষি পরামর্শের অভাবকে এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকরা সরকারি সহায়তা ও উন্নত মানের বীজের প্রাপ্যতা কামনা করছেন। তাদের আশা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে শসা চাষ লাভজনক হতে পারে এবং কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।