নাটোরে মির্জা মামুদ খাল পুনঃখননে বিতর্কের ঝড়
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত মির্জা মামুদ খালটি আবারও খনন করা হচ্ছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এই খননকাজ হাতে নিয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু)। তিনি দাবি করেন, আগের খনন কাজ শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এবার বাস্তবে খাল কাটা হচ্ছে এবং তদারকি করা হবে।
খনন প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি বিবরণ
পাউবোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মির্জা মামুদ খালটির দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার। এই খনন প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফুট গভীর এবং তলার প্রস্থ ৬ ফুট পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।
বিএডিসির পূর্ববর্তী খনন ও বর্তমান সমালোচনা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এই খালটি ইতিমধ্যে ২০২২-২৩ সালে খনন করেছিল মাত্র ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে। বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক জানান, সেই সময় ৪ কিলোমিটার খনন করে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়েছিল, যা খালের নাব্যতা ফিরিয়ে এনেছিল। তিনি দাবি করেন, খালটি বর্তমানে খননযোগ্য নয় এবং পাউবোর এই উদ্যোগ নিয়মবহির্ভূত ও অযাচিত, যা সরকারি টাকার অপচয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
পাউবোর প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বক্তব্য
নাটোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিমের সাথে যোগাযোগ করা গেলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, তিনি নতুন পদে যোগদান করেছেন এবং খালটি বিএডিসির কি না তা জানেন না। অন্যদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, 'স্বৈরাচার সরকারের আমলে খাল খনন শুধু অনিয়ম-দুর্নীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল, এবার আমরা মনিটরিং করব এবং কোনো অনিয়ম হতে দেব না।'
বিতর্কের মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই খনন প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খনন করা হচ্ছে প্রায় আট গুণ বেশি টাকায়। বিএডিসি এই প্রকল্পটিকে বিতর্কিত বলে অভিহিত করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারি সম্পদের অপচয় এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
