তারেক রাহমানের খাল খনন কর্মযজ্ঞ শুরু, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গ্রামীণ উন্নয়নের পথে
তারেক রাহমানের খাল খনন কর্মসূচি শুরু, পিতার ধারা অব্যাহত

তারেক রাহমানের খাল খনন কর্মযজ্ঞ শুরু, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গ্রামীণ উন্নয়নের পথে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান পিতার দেখানো পথে হেঁটে দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখননের মহা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। গতকাল সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকার সাহাপাড়া খালে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ৫৪ জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা হলো, যা গ্রামীণ কৃষি উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিতার ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচির ধারাবাহিকতা

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রাহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। তার সময়ে এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল, যা দেশের কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। জিয়াউর রাহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আয়েশি জীবন ত্যাগ করে কৃষক-শ্রমিকের সঙ্গে কোদাল-কাস্তে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়াতেন, গ্রামীণ উন্নয়নে নিবেদিত ছিলেন।

প্রায় পাঁচ দশক পর, জিয়াউর রাহমান ১৯৭৭ সালে দিনাজপুরে শুরু করা খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায়, তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজের উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী প্রসারিত হচ্ছে, পূর্বের মতোই বর্ষার পানি ধরে রাখা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং নৌযোগাযোগ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।

সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের গুরুত্ব

সাহাপাড়া খালের দৈর্ঘ্য ১২.২ কিলোমিটার এবং এটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। এই খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। উদ্বোধনের আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, "এই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে এলাকার সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।"

তারেক রাহমানের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা দেশের কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই কর্মসূচি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং পিতার আদর্শ ও দর্শনকে সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শহিদ জিয়ার সময়ে ‘খাল খনন’ প্রকল্প ছিল একটি জাতীয় আন্দোলন, যা গ্রামবাংলার ছোট-বড় খালগুলোকে জীবনস্রোত ফিরিয়ে দিয়েছিল। এখন তারেক রাহমানের নেতৃত্বে এই ধারা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে, আশা করা যায় এটি দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।