কুয়াকাটা উপকূলে জেলিফিসের উপদ্রব: জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও জেলিফিসের উপদ্রব বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় জেলেদের জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরি করেছে। গভীর সাগর থেকে ভেসে আসা অসংখ্য মরা জেলিফিসে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের চর গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মাছ ধরা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা, যাদের অনেকেই সাময়িকভাবে তাদের পেশা বন্ধ রেখেছেন।
জেলেদের প্রতিক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাগরে জাল ফেললেই মাছের পরিবর্তে ঝাঁকে ঝাঁকে জেলিফিস উঠে আসছে। এতে জেলেদের জাল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। কুয়াকাটা গঙ্গামতির জেলে রফিক মাঝি জানান, "জাল ফেললেই মাছের বদলে জেলিফিস উঠছে। এগুলো জালে আটকে গেলে জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার শরীরে লাগলে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া করে। তাই এখন অনেকেই সাগরে যেতে ভয় পায়।"
কুয়াকাটার মেলাপাড়া এলাকার আরেক জেলে আবুল কালামও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, "সাগরে জাল ফেললে প্রায় পুরো জাল জেলিফিসে ভরে যায়। এতে মাছ পাওয়া যায় না, উলটো জাল পরিষ্কার করতে অনেক সময় লাগে। কয়েকদিন ধরে তাই অনেক ট্রলার সাগরে যাচ্ছে না।" এই অবস্থায় জেলেদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের মতে, সাগরের গভীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া, পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জেলিফিসভোজী কচ্ছপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলিফিসের বিস্তার বাড়ছে। তিনি আরও জানান, সাগরে এ ধরনের পরিস্থিতি মৌসুমি কারণে হয়ে থাকে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে জেলিফিসের সংখ্যা কমে আসার কথা। তখন মাছ ধরা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এর আগেও একবার জেলিফিসের উৎপাতে একইভাবে মাছ শিকারে বেকায়দায় পড়েছিলেন কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের জেলেরা। এই পুনরাবৃত্তি সমস্যা স্থানীয় মৎস্য সম্পদ ও জেলেদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
