সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক তামাক চাষ শুরু
সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় একটি তিন ফসলি জমিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তামাকের আবাদ শুরু হয়েছে। এই অঞ্চলে আগে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো এবং পর্যাপ্ত উৎপাদন হত, কিন্তু এবার কৃষকরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তামাক চাষ বেছে নিয়েছেন।
কৃষকদের মুনাফার আশা ও বাস্তবতা
স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বেশি লাভের আশায় তামাক চাষ করেছেন। তিনি বলেন, "একটু বেশি লাভের আশায় তামাক চাষ করেছি। কিন্তু জমিতে বেশি পরিমাণে সার এবং পানি থাকার কারণে তামাকের তেমন ভালো আবাদ হয়নি। এরপর থেকে এটা বাদ দিয়ে পাটের আবাদ করব।" এই সিদ্ধান্তে তিনি সরিষা চাষের পরিবর্তে তামাক বেছে নিয়েছিলেন, যা তার জন্য লাভজনক হতে পারেনি।
কৃষি কর্মকর্তাদের অজানা বিষয়
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, কামারখন্দে তামাক চাষ হচ্ছে তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, "কামারখন্দে তামাক চাষ হচ্ছে আমার জানা ছিলো না। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তামাকের আবাদ নিষিদ্ধ নয়, তবে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
তামাক চাষের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কৃষক শহিদুল ইসলামের মতো অনেকে এখন পাটের মতো বিকল্প ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি কর্মকর্তারা তামাক চাষ করা কৃষকদের অফিসে আসতে বলেছেন, যাতে তারা সঠিক পরামর্শ পেতে পারেন।
এই ঘটনা সিরাজগঞ্জের কৃষি খাতে নতুন একটি দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে কৃষকরা মুনাফার জন্য নতুন ফসল চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব ও কর্মকর্তাদের সচেতনতার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।



