হালদা নদীতে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযান: ৩৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ
হাথাজারী উপজেলার মৎস্য বিভাগ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ৩৫০০ মিটার অবৈধ জাল এবং ১২টি বড়শি জব্দ করেছেন।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বিএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত হালদা নদীর নাজিরহাট অংশে এই অভিযান চালানো হয়। বিশেষভাবে মাছুয়াঘোনা থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত হালদা নদীর মোহনা এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালিত হয়।
হাথাজারী উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলী অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩৫০০ মিটার চার-ঘেরা জাল এবং ১২টি বড়শি অভিযানের সময় জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত সামগ্রীর বর্তমান অবস্থান
জব্দকৃত অবৈধ জালগুলো হালদা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অস্থায়ী নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা শওকত আলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এই জালগুলো পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে।
হালদা নদীর গুরুত্ব ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
হালদা নদী শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্রই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার। এই নদীতে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষার জন্য মৎস্য বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
শওকত আলী আরও উল্লেখ করেন যে হালদা নদী শুধু মৎস্য সম্পদের জন্যই নয়, ডলফিন এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত। মৎস্য ঐতিহ্য স্থান হিসেবে এই নদীর পরিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম।
মৎস্য বিভাগের এই অভিযান হালদা নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও নদীর অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করতে অনুরূপ অভিযান চলমান থাকবে।
