বগরার দুপচাঁচিয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
বগরা জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো সরকারি সহায়তা এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার চাষাবাদ ও সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে, আর কৃষকরা আশা করছেন ভালো মুনাফার।
লক্ষ্যমাত্রা ও চাষাবাদের বর্তমান অবস্থা
দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩,৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আমন ধান কাটায় বিলম্বের কারণে মাত্র ৩,৪৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯০ হেক্টর কম।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌসুম শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূল ছিল, আর কৃষকরা প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সময়মতো পেয়েছেন। এর ফলে চাষাবাদের ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় সরিষা কাটা ও মাড়াই শুরু হয়ে গেছে।
কৃষকদের প্রতিক্রিয়া ও ফলনের হার
গোবিন্দপুর, মোরগ্রাম ও শেরপুর এলাকার কৃষকরা এবার অসাধারণ ফলনের কথা জানিয়েছেন। তারা সরিষার এই সাফল্যের জন্য কৃষি অফিসের সঠিক পরিচর্যা ও নির্দেশনার কৃতিত্ব দিচ্ছেন।
গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকরা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মণ সরিষা পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারে শুকনো সরিষার দাম প্রতি মণ ২,৮০০ টাকা, আর তাজা কাটা সরিষার দাম প্রতি মণ ২,৩০০ টাকা। এই দামে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সরিষা বিক্রি করতে পারছেন, যা তাদের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সাহায্য করছে।
কৃষি অফিসের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদিন জানান, কৃষকদের উচ্চমানের বীজ ব্যবহার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফসলকে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে নজরদারি ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এর ফলেই চলতি মৌসুমে সরিষার উৎপাদন চমৎকার হয়েছে। যেসব এলাকায় ফসল পেকেছে, সেখানে সংগ্রহ কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। ভালো ফলন ও অনুকূল বাজার দামের কারণে কৃষকরা এবার সন্তোষজনক মুনাফা অর্জনের আশা করছেন।”
সরিষার এই বাম্পার ফলন কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনগুলোতেও অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে সরিষা চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
