তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ: উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ: উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এ কারণে প্রথমেই তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সার্বিকভাবে পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট: একটি জটিল চ্যালেঞ্জ

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাঞ্চলকে খরা ও পানিসংকট থেকে রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে ৫৭টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি ভারতের সঙ্গে এবং ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আন্তঃ সীমান্ত নদীনির্ভর এই অঞ্চল প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে তীব্র পানিসংকটে পড়ে। ক্রমাগত পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়।

পরিকল্পনার সুফল ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে খাল, নদী ও জলাশয় খনন, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। শুকনো মৌসুমে যাতে কৃষকরা চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। খুব দ্রুত বাস্তবায়নে দুই দফা জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলে পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন স্থিতিশীল হবে এবং খরার প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে। পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে খরা থেকে মুক্ত করা এবং কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ, উন্নয়ন হবে বাংলাদেশ। এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।