সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাটে পাইকারি লাউ কেনাকাটা, ৩৬ হাজার লাউ ঢাকার উদ্দেশ্যে
সীতাকুণ্ডে পাইকারি লাউ কেনাকাটা, ৩৬ হাজার ঢাকায়

সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাটে পাইকারি লাউ কেনাকাটার তীব্রতা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার শুকলাল হাট বাজারে আজ রোববার সকালে এক জমজমাট দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো লাউয়ের পসরা থেকে পাইকারেরা ব্যাপক হারে কেনাকাটা চালিয়েছেন। এই বাজারটি উপজেলার বৃহত্তম সবজি বাজার হিসেবে পরিচিত, যা প্রতি রবি ও বুধবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে।

কৃষক ও পাইকারদের মধ্যে দাম নিয়ে টানাপোড়েন

বাজারে ঘুরে অন্তত ১৫ জন কৃষক ও পাইকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারেরা দাম কম দিচ্ছেন। তবে কৃষকেরা দাবি করছেন যে, বর্তমান দামে তাদের লোকসান গুনতে হবে না। অন্যদিকে, বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন যে, এই সময়ে লাউয়ের দাম অনেক কম হওয়ার কথা থাকলেও কৃষকেরা দাম কমিয়ে রাখছেন না, ফলে তাদের বেশি দামে লাউ কিনতে হচ্ছে।

বাড়বকুণ্ড এলাকার কৃষক মনা মিয়া বলেন, "লাউয়ের দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক দিন আগেও আমি প্রতিটি লাউ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন তা ২২ থেকে ২৫ টাকায় নেমে এসেছে।" এই দাম হ্রাস সত্ত্বেও, বাজারে কেনাকাটার গতি অব্যাহত ছিল।

পাঁচ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার লাউয়ের কেনাবেচা

আজ সকাল ১১টার দিকে শুরু হয়ে পাঁচ ঘণ্টার কেনাকাটার পর, মোট ১১ জন ব্যবসায়ী মিলে ৩৬ হাজার ৩৪০টি লাউ ক্রয় করেছেন। পাইকারি ক্রেতা মোহাম্মদ হাশেম জানান, তিনি তিন হাজার লাউ কিনেছেন, যার গড় দাম পড়েছে ৩০ টাকা প্রতি লাউ। তিনি এই লাউগুলো ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তে পাঠাচ্ছেন, সেখান থেকে খুচরা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

অন্য একজন পাইকারি ক্রেতা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, "আমরা প্রত্যেকেই লাউগুলো কারওয়ান বাজারের আড়তে পৌঁছে দিই। আড়তদাররা কখনো ১০ টাকা লাভে, আবার কখনো ২ টাকা লোকসানে বিক্রি করে আমাদের কাছে টাকা পাঠান।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লাউ ছাড়াও তারা অন্যান্য সবজি কেনেন এই বাজার থেকে।

কৃষি বিভাগের তথ্য ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহর মতে, এই উপজেলায় নাইচ গ্রিন, সুলতানা, মেরিনা, হাই গ্রিন, কচি ও গ্রিনম্যাজিক জাতের লাউ চাষ হয়েছে। রবি মৌসুমে লাউয়ের আবাদি জমির পরিমাণ ৩৭০ হেক্টর, এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ টন। তিনি বলেন, "এবার কোনো কৃষক লাউ চাষ করে লোকসানে পড়েননি। শুরু থেকেই ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা।"

শুকলাল হাট বাজারের পরাগ সিনেমা হলের সামনে লাউয়ের বড় বড় স্তূপ সাজানো ছিল, যেখানে শ্রমিকেরা আকারভেদে লাউ আলাদা করছিলেন। পিকআপ, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে লাউ ভর্তি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।