প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড়ভুক্ত সাতটি জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে কৃষকরা স্বস্তিতে ধান ঘরে তুলছেন।
সপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা জানান, সিলেট অঞ্চলের চার জেলা (সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার), ঢাকা অঞ্চলের কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা অঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনা; এই ৭টি জেলায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।
ধান কাটার অগ্রগতি
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওড়ে ধান নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, গত ৭ মে থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছিল, যা মোট অর্জিত জমির মাত্র ০ দশমিক ২৯ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে ৮৪ শতাংশের বেশি ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ায় ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও সংগ্রহ অভিযান
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, গত ৩ মে থেকে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ১০ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন ধান এবং ৪ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়। সরকার চলতি মৌসুমে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল রয়েছে।
তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান
তথ্য উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানাচ্ছেন। কৃষিকে আধুনিক করা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই খাতকে আরও লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।



