চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং। তাদের মতে, প্রতিদিন এক হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সম্প্রতি এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দশকে ২০টি প্রস্তাব, বাস্তবায়ন শূন্য
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব নতুন নয়। গত এক দশকে দেশি-বিদেশি অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিলেও একটি প্রকল্পও চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়নি। জমির সংকট, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিবেশদূষণের শঙ্কা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা
জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং জাপান সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, নগরে উৎপাদিত বর্জ্যের অর্ধেক (এক হাজার টন) ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ল্যান্ডফিলে যাওয়া বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে এবং পরিবেশদূষণ হ্রাস পাবে। সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে লাভজনক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আটকে যাওয়ার কারণ
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ প্রায় ২৫-২৬ টাকা, যেখানে সরকার গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনছে প্রায় ১২ টাকায়। ফলে প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে তেমন লাভজনক নয়। এছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার বলেন, অধিকাংশ প্রস্তাব অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত। সুনির্দিষ্ট ও পরিপূর্ণ প্রস্তাব না পাওয়ায় প্রকল্প আটকে আছে।
সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী দেলওয়ার হোসাইন বলেন, নগরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বিদেশি অর্থায়নে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করে ২ হাজার ২৬৯ টন।



