দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ১ নম্বর ইউনিট চালু করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় ইউনিটটি সচল হয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। এরপর তা বন্ধ হয়ে যায় এবং টানা ছয় দিন বন্ধ থাকে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুরু থেকেই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে তিনটি ইউনিট মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত হতো। সে ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়তো। ফলে কয়লা খনির মজুত ইয়ার্ডে সংকুলানের সমস্যা দেখা দিত না। কিন্তু বর্তমানে পাওয়ার প্ল্যান্টে কয়লা সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে ২ হাজার মেট্রিক টনে। সম্প্রতি তা আরও কমে ১ হাজার টনের নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে ইয়ার্ডে মজুত রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন কয়লা।
কয়লা উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যবধান
কয়লার উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় খনি বন্ধের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট একটি সচেতন মহল। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি ইউনিট চালু হয় আবার বন্ধ হয় এবং তা থেকে মাঝে মাঝে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সমস্যাগুলো নির্মাণকাল থেকেই বিদ্যমান, তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবেন না।
সমাধানের আশ্বাস
কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, খুব দ্রুতই কোল ইয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত কয়লা অন্যত্র সংরক্ষণের চিন্তাভাবনা করছেন।



