ভুয়া কৃষি প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির গ্রেফতার
ভুয়া কৃষি প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির গ্রেফতার

অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ‘নাজরান ফিশারীজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে একটি ভুয়া কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার রাতে ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকা থেকে মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ও তদন্তের তথ্য

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সিআইডি মিডিয়া থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি ‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত। তারা প্রতিশ্রুতি দিত, এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ আসল ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ হবে।

প্রলোভনে পড়ে বিনিয়োগ

এই প্রলোভনে পড়ে মামলার বাদী ও তাঁর তিন বান্ধবী ২০২৩ সালের মে মাসে ভাটারা থানার কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে বিনিয়োগ করেন। ওই দিন বাদী ৭ লাখ টাকা এবং অন্য দুই বান্ধবী ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে তাদের মানি রিসিট ও মাসিক ক্যাশব্যাক বহি দেওয়া হয়। প্রথমদিকে আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি মোট ৪২ হাজার টাকা ফেরত দেয়। এতে ভুক্তভোগীদের আস্থা বাড়ে এবং ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রমাগত প্রতারণা ও আত্মসাৎ

পরবর্তীতে চক্রের সদস্যরা বিনিয়োগকারীদের প্রজেক্টের প্লট কিনতে বাধ্য করে। এভাবে বাদী ও তাঁর দুই বান্ধবীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও পরে লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় প্রতারকরা। তদন্তের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। প্রতিষ্ঠানটির নামে পরিচালিত চারটি ব্যাংক হিসাব, মানি রিসিট ও সার্ভারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গ্রেফতার ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদ ও গ্রেফতার

২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রেস কনফারেন্স ও মানববন্ধন করেন। এ–সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে যায় এবং গ্রেফতার এড়াতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ রাখে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বাসাবো এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যান্য তথ্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ

তদন্তে গ্রেফতার ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এজাহারে উল্লেখিত অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।