মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) কাগজপত্র ব্যবহার করে পাচারকালে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরার চালানসহ একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাকারবারিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দর থেকে জিরার চালানটি বড়লেখা হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযান ও জব্দ
শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের সীমান্ত মেইন পিলার ১৩৯১ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জুড়ী–বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুলিস্তান (আরেঙ্গাবাদ) পয়েন্ট থেকে এসব জব্দ করা হয়। এ সময় আবুল হোসেন নামে এক চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মৃত আখলাছ আলীর ছেলে।
হামলা ও আহত
অভিযান চলাকালে চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির নায়েক পলাশ গুরুতর আহত হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার মো. নজরুল ইসলাম বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ানীবাজার ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের গুলিস্তান পয়েন্টে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায়। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যানকে থামিয়ে বিজিবি সদস্যরা কাগজপত্র যাচাই ও পণ্যের বিষয়ে জানতে চান। ট্রাকে থাকা চোরাকারবারিরা জানায়, এতে এলসি করা জিরা রয়েছে। তবে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, প্রদর্শিত এলসির মালামাল ইতোমধ্যে ২৬ এপ্রিল শেওলা স্থলবন্দর থেকে খালাস করা হয়েছে।
ভুয়া কাগজপত্রে ভারতীয় জিরা পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জব্দ করার কার্যক্রম শুরু করলে চোরাকারবারিরা বিজিবির ওপর হামলা চালায়। এতে নায়েক পলাশ আহত হন। পরে বিজিবি সদস্যরা থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবুল হোসেনকে আটক করে এবং কাভার্ড ভ্যানসহ ১৯২ বস্তা (প্রায় ৫ হাজার ৭৬০ কেজি) ভারতীয় অবৈধ জিরা জব্দ করে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
আইনানুগ ব্যবস্থা
৫২ বিজিবি (বিয়ানীবাজার) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, ট্রাকসহ অবৈধ জিরার চালান জব্দ করা হয়েছে এবং একজন চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার (৩ মে) দুপুরে বিজিবির পক্ষ থেকে বড়লেখা থানায় মামলা করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, ট্রাকসহ জিরার চালান আটকের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিজিবি মামলা করেছে। গ্রেফতার আসামিকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



