বৃষ্টিতে হাওরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকরা দুশ্চিন্তায়
বৃষ্টিতে হাওরে বোরো ধানের ক্ষতি, কৃষক দুশ্চিন্তায়

কয়েক দিনের বৃষ্টি শেষে দেখা দিয়েছিল রোদ। সেই রোদে স্বস্তি ফিরেছিল কৃষকের মনে। তবে শুক্রবার (১ মে) দুপুরের পর থেকে আবারও বৃষ্টি নামতে শুরু করে। এতে দুশ্চিন্তা কাটছে না মৌলভীবাজারের হাওর পাড়ের এলাকার কৃষকদের। অনেকেই জমির পাশে গিয়ে দেখছেন তার ডুবন্ত ফসল ভেসে উঠছে কিনা। এমন চিত্র হাওড়া এলাকায় গেলে দেখা যায়।

নদীর পানি কমলেও হাওরে বাড়ছে

স্থানীয়রা জানান, মৌলভীবাজার জেলার সবকটি নদীর পানি গত দুদিন থেকে কমতে শুরু করেছে। আজকের বৃষ্টির কারণে আবারও হাকালুকি হাওর এবং মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাছেই কাঞ্জার হাওর ও অন্যান্য ছোট হাওয়ারে বোরো ধান চার দিন থেকে তলিয়ে রয়েছে। এসব ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। যারা ধান কেটে স্তূপ করে রেখেছেন সেগুলো সূর্যের আলো না থাকায় অংকুর চলে আসছে।

কৃষকদের বাকরুদ্ধ অবস্থা

চোখের সামনে বোরোধানের ক্ষতি দেখে কৃষকরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। হাওর এলাকায় রয়েছে শ্রমিক সংকট। জমিতে পানি অতিরিক্ত থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কর্তন করা যাচ্ছে না। পেলেও শ্রমিকরাও অতিরিক্ত পানিতে নেমে ধান কাটতে করতে চান না। মনু প্রকল্পের ভেতর (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) কাউয়াদিঘি হাওরে বোরোধান তলিয়ে পচে যাচ্ছে। প্রকল্পের পাম্প সচল না রাখার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওরেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঁচ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে

মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলা মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় হাওরের ধান সময় যতই যাচ্ছে ততই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদীঘির হাওরে বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিন দিনে বৃষ্টি হইছে ২৬৬ মিলিমিটার। পুরো এপ্রিল মাসে গড়ে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। সে জায়গায় তিন দিনে বৃষ্টি হয়েছে ২৬৬ মিলিমিটার মৌলভীবাজারে। পানি নিষ্কাশন পাম্প তো ওভাবে ডিজাইন করা। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে নিষ্কাশন কোন সমস্যা হতো না। একসঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। যদি বৃষ্টি কম হয়, তাহলে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পানি কমানো সম্ভব হবে। এখন যতটুকু নিষ্কাশন হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পানি আবার চলে আসছে বৃষ্টির কারণে।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের সময় দুইদিন বিদ্যুৎ ছিল না। ৮টি পাম্প চালাতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তবে আড়াই মেগাওয়াট লোড পাচ্ছি। এ কারণে ৮টি পাম্প এর মধ্যে ৬টি চালাতে হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে জেলার ৭টি উপজেলার কৃষি আফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।