দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে জনসেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রীর বক্তব্য
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজে অধিবেশনের অষ্টম দিনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩) উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইসিটি বিভাগের আওতাধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক ও আরও কার্যকর সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ডিজিটালভাবে গ্রহণ করতে পারছেন।
‘ডিজিটাল সেন্টার ২ দশমিক ০’ বাস্তবায়ন
মির্জা ফখরুল জানান, দেশব্যাপী ‘ডিজিটাল সেন্টার ২ দশমিক ০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটুআই এবং ইউএনডিপি একটি বেইসলাইন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা দক্ষ ও অনুপ্রাণিত থাকেন।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রবাসী সেবা
মন্ত্রী সংসদে জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রবাসী সেবা ডেস্কে কাজ করা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স উত্তোলন ও পুনঃএকত্রীকরণ সেবা পাবেন।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ
তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘স্কিলস ফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে। মাদারীপুর জেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭৭ জন উদ্যোক্তা ডিজিটাল কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করছেন।
সরকারের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।



