গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকায় অবস্থিত দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বছরের বেশিরভাগ সময় কারখানাটি বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রাংশগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে ইউরিয়া সার সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
শ্রমিকদের দুর্দশা
দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় কারখানার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। শামসুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, ছোবাহান আলী ও আফজাল হোসেনসহ একাধিক শ্রমিক জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই সার কারখানা নানা কারণে বন্ধ থাকে। ফলে তাদের কোনো কাজ থাকে না। ট্রাকগুলোও পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কাজ না থাকায় তারা পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। তারা অতি দ্রুত কারখানাটি চালুর দাবি জানান।
কারখানার ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় যমুনা সার কারখানা। এটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন। কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন করছিল কারখানাটি। কিন্তু গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে ১ হাজার ২০০ টনে নেমে আসে।
২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম তিতাস গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়। দীর্ঘ ১৩ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ পেয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার পর অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় আবার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মাঝে মাঝে গ্যাস সংযোগ পেলেও বেশি দিন চালু থাকেনি এই কারখানা। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে সার কারখানাটি।
সরবরাহ ও সংকটের আশঙ্কা
যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, উত্তরাঞ্চলের রাজবাড়ী ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ ২০টির বেশি জেলার আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিয়ে এই বৃহৎ শিল্প কারখানাটি সচল রাখতে না পারলে এটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে বা উৎপাদনে ফিরবে কারখানাটি, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে উৎপাদনের সব প্রস্তুতি রয়েছে; গ্যাস সংযোগ পেলেই তারা উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।



