বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বোরো ধানের দামে ধস নেমেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে ঝড়-বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে তেলের অভাবে ধান কাটা ও মাড়াই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লোকসানের মুখে কৃষক
উপজেলার কুরমণি গ্রামের কৃষক মালেক শেখ জানান, প্রতিদিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঠের সব ধান একসঙ্গে পেকে গেছে। ফলে ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় জমির ধান কীভাবে ঘরে তোলা যায়, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে একজন ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। ফলে দেড় মণ ধানের দাম দিয়েও একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।
ফড়িয়া ও মহাজনদের কারসাজি
দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক প্রতুল হালদার জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা ধান চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তাদের বড় লোকসান গুনতে হবে। ঋণের টাকা শোধ করা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ফড়িয়া, মিল মালিক ও গুদাম মালিকদের কারসাজির কারণে ধানের দাম কমে গেছে।
সরকারি উদ্যোগ
উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, সরকার ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এটি চালু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



