দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাও। তাপপ্রবাহে রাজধানীর জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ফুটপাতে বসবাসকারী ভাসমান মানুষও রয়েছেন চরম কষ্টে। প্রখর রোদ, উত্তপ্ত সড়ক আর ধুলাবালির মধ্যে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। নেই পর্যাপ্ত ছায়া ও বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা। ফলে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি। তারপরও চলছে জীবন-জীবিকার লড়াই।
ফুটপাতের দোকানিদের দুর্ভোগ
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এছাড়া ফুটপাতের দোকানিরা মাথার ওপর ছাউনি টানিয়ে বা ছাতা ব্যবহার করে কোনোমতে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তবে গরমে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে অনেকের। ফুটপাতে স্বল্প পরিসরে ফলের ব্যবসা করেন কালাম হোসেন। তিনি বলেন, এই গরমে বসে থাকা খুব কষ্টের। মাথা ঘোরায়, শরীর দুর্বল লাগে। তবুও বসতে হয়।
কাপড় বিক্রেতা রহমত মিয়া বলেন, আগে দিনে যা বিক্রি হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। গরমে মানুষ বাইরে কম বের হয়, তাই আমাদের আয়ও কমে গেছে। গরম হলেও বসতে হচ্ছে, না বসলে সংসার চলবে না।
বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুল আজিজ। খেলনা বিক্রি না করলে পেট চলে না বলে তিনি জানান। যেদিন যা বিক্রি তাই দিয়েই সংসার চলে। এখন গরমের কারণে মানুষ কম আসে। গরমে বেচাকেনা কম, কোনোরকম সংসার চলছে।
ভাসমান মানুষের করুণ অবস্থা
শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, ফুটপাতে বসবাস করা ভাসমান মানুষদের অবস্থা আরও করুণ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জান গেছে, খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরমে তাদের দিন-রাত চরম কষ্টে কাটছে। বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ফুটপাতে বসবাসকারী রহিমা বেগম বলেন, এই গরমে সন্তানদের নিয়ে থাকা খুব কষ্ট। দিনভর রোদে বসে থাকতে হয়, রাতে গরমে ঘুমানো যায় না। ঠিকমতো পানি পাই না, অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়।
আরেকজন, আব্দুল করিম বলেন, মাথার ওপর কোনও ছাদ নাই। গরমে শরীর জ্বলে যায়। কাজও ঠিকমতো করতে পারি না, তাই আয় কমে গেছে। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই।



