কক্সবাজারে ডিজেল সংকটে সেচ বিপর্যয়, হাজার হাজার পাম্প অচল
কক্সবাজার জেলায় ডিজেলের তীব্র সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই সংকটের ফলে হাজার হাজার সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে, যা বোরো উৎপাদন ও কৃষকদের আর্থিক অবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জেলার প্রায় ৪,০০০ সেচ পাম্প বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অচল অবস্থায় রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চকরিয়া উপজেলায়। ফিলিং স্টেশনগুলো হয় বিক্রি বন্ধ রেখেছে, নয়তো সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করছে। এর ফলে পাম্প অপারেটর ও পরিবহন শ্রমিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না, যা সেচ কার্যক্রম বিলম্বিত করছে এবং কৃষি ও পরিবহন কার্যক্রমকে ধীরগতির করে তুলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, রামু, ঈদগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া ও সদর উপজেলায় মোট ৭,১৪৬টি সেচ পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ পাম্প ডিজেলচালিত, বাকিগুলো আংশিকভাবে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। তবে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মিলিত প্রভাবে বিপুল সংখ্যক পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের উদ্বেগ ও আশঙ্কা
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকার কৃষক মোক্তার মিয়া, নুরুল আমিন ও আবুল খায়ের বলছেন, সময়মতো সেচ কার্যক্রম নিশ্চিত না হলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তারা আশঙ্কা করছেন, এতে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। কৃষকরা জোর দিয়ে বলছেন, ফসলের এই ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে সেচের অভাবে পুরো বোরো মৌসুমই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপ
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ও কালোবাজারি কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্রুত স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তার মতে, এই সংকট কেবল কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।



