নড়াইলে ডিজেল তেল আনতে গিয়ে কৃষাণীর মৃত্যু
নড়াইলে ডিজেল তেল আনতে গিয়ে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃতার নাম লাভলী বেগম (৫২)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের দাউদ মোল্লার স্ত্রী এবং পেশায় কৃষাণী ও গৃহিণী ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, লাভলী বেগম সোমবার সকালে শহরের মাছিমদিয়ায় সরদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আনতে যান। তিনি বোরো ধানে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি পাত্রে তিন লিটার ডিজেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
মাছিমদিয়া এলাকায় ফেরার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে ভ্যানযোগে নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার লিপিকা রাণী বিশ্বাস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তার লিপিকা রাণী বিশ্বাস বলেন, "হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।"
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী মাছিমদিয়া এলাকার তামিম হোসেন বলেন, "ওই নারী মাছিমদিয়া ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভ্যানযোগে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই।"
মৃত লাভলী বেগমের ভাই নাজমুল ইসলাম বলেন, "আমার বোন লাভলী বেগম একজন কৃষাণী ও গৃহিণী। দুলাভাই ডাব বিক্রি কনের। আপা (লাভলী) বোরো ধানে সেচ দেওয়ার জন্য সকালে ডিজেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যান। ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।"
পুলিশের বক্তব্য
নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া কৃষাণী লাভলী বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতির মূল্যায়ন
এ ঘটনা নড়াইল এলাকায় কৃষক ও কৃষাণীদের জন্য ডিজেল তেল সংগ্রহ প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি আলোকপাত করে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
লাভলী বেগমের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তিনি শুধু একজন কৃষাণীই ছিলেন না, বরং পরিবারের আর্থিক অবলম্বনও ছিলেন। তার স্বামী দাউদ মোল্লা ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই দুর্ঘটনা কৃষি কাজে নিযুক্ত নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।



