পেকুয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারে স্লুইসগেট ধ্বংস, লবণের মাঠে লোনা পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের তীব্রতায় একটি জরাজীর্ণ স্লুইসগেট ভেঙে পড়েছে, যার ফলে লোনা পানি ঢুকে লোকালয় ও লবণের মাঠ তলিয়ে গেছে। এই ঘটনায় মুহূর্তেই কয়েকশ একর ফসলি জমি পানির নিচে চলে যায়, যা স্থানীয় চাষিদের জন্য মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও স্লুইসগেট ধসের ঘটনা
রোববার দিবাগত রাতে পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পায়। পানির প্রবল চাপে মগনামা ইউনিয়নের সনালীবজার সংলগ্ন একটি পুরনো স্লুইসগেট ভেঙে যায়, এবং হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে লবণের মাঠে। চাষিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্তূপ করা লবণ এবং উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা ‘বেড’গুলো সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অন্তত ৫০০ বড় বিনিয়োগকারীসহ কয়েক হাজার প্রান্তিক চাষি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাঠেই বিক্রির জন্য প্রস্তুত শত শত মণ লবণ এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা চাষিদের আর্থিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
চাষিদের হতাশা ও আর্থিক সংকট
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি হারুন, নন্না মিয়া, শফিউল করিম, কালু, গিয়াস উদ্দিনসহ অনেকে জানান, তারা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবার লবণ চাষে নেমেছিলেন। লবণের বাজারদর ভালো থাকায় তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন, কিন্তু এই দুর্যোগে সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তোলিত লবণের স্তূপ জোয়ারের তোড়ে গলে গেছে এবং মাঠ প্লাবিত হওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্লুইসগেটটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকলেও সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ চাষিদের।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, “জোয়ারের তোড়ে স্লুইসগেট ভেঙে চাষিদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা আমি নিজে সরজমিনে দেখে এসেছি। এটি এলাকার অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। দ্রুততম সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা চলছে। পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, স্লুইসগেটটির একাংশ ধসে পড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজ শুরু করেছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পক্ষ থেকে।



