তীব্র দাবদাহ ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি ক্রমাগত কমছে। পানির এই সংকটের কারণে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চালু থাকা দুটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে, অথচ হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে পাঁচটি ইউনিট চালু করে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত।
পানির স্তর উদ্বেগজনক
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুলকার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট (এমএসএল) থাকার কথা। কিন্তু বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম। যদি পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে আসে, তাহলে তা বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
হ্রদের সৃষ্টি ও বর্তমান সংকট
১৯৬০ সালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি হয়। এই হ্রদ থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি রাঙামাটি জেলায় নৌ যোগাযোগ, মাছ উৎপাদন, কৃষি ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটে। তবে বাঁধ নির্মাণের পর থেকে হ্রদের তলদেশ কখনো খনন করা হয়নি, ফলে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে হ্রদজুড়ে অসংখ্য ডুবোচর ও মাঠ জেগে ওঠে, যা নৌ চলাচল ও পরিবহণে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় হ্রদনির্ভর জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। জেলা সদরের সঙ্গে নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নৌযানগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, কারণ পানি শুকিয়ে গিয়ে গন্তব্যস্থল থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, “কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। জেলার প্রায় সব নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। পানি শুকিয়ে গন্তব্যস্থল থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার নিচে নেমে গেছে।”
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের বক্তব্য
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “অনাবৃষ্টি, খরা ও তীব্র দাবদাহের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির স্তর ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ এমএসএল, যা রুলকার্ভ অনুযায়ী স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম। চলতি সপ্তাহে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রবল বৃষ্টি না হলে হ্রদে পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই।”



